মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিজেকে মানুষ এরপর বাঙ্গালী ভাবতে শিখুন-শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি গাজীপুর ইউনিয়নে সম্প্রীতি সমাবেশ। হাইমচরের উঃ আলগী ইউনিয়নে সম্প্রীতি সমাবেশ। এতিম খানা খাবার বিতরণ করেন শেখ রাসেল এর জন্মদিন উপলক্ষে এডভোকেট শেখ জামান রিপন । লক্ষ্মীপুরে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। হাইমচরের ২ নং উঃ আলগী ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাইমচরে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ এর মধ্য দিয়ে জন্মদিন উদযাপন। চাঁদপুরের নৌকার বি‌রোধীতাকারী কি ক‌রে নৌকার ম‌নোনয়ন পায়: আব্দুল ছাত্তার রাড়ি। ‘বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে রক্ষা করতে না পারা জাতির ব্যর্থতা’ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পীরগঞ্জে হামলা: তথ্যমন্ত্রী

‘ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডি প্রতারক চক্রের লিডার’

 নিজস্ব প্রতিবেদক:  অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের লিডার। তারা অত্যন্ত ধুরন্ধর ও কৌশলী।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এরপর গুলশান থানায় প্রতারণার অভিযোগে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক ওয়াহিদুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনে তিনি এসব কথা উল্লেখ্য করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘আসামিরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের লিডার এবং অত্যন্ত ধুরন্ধর ও কৌশলী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একেক সময় একেক রকম কথাবার্তা বলেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে যান। আসামিরা তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা প্রতারকসহ ইভ্যালির পণ্য বিক্রয়ের নামে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এক গ্রাহকের তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পায়, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার গ্রাহকের শত কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা উদ্ধারসহ তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে তাদের রিমান্ডে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।’

প্রতারণার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড নিতে আবেদন করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক ওয়াহিদুল ইসলাম এসব কথা উল্লেখ করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিটন তাদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইভ্যালির এমডি রাসেলের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। অভিযান শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে এ দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর র্যাবের সাদা গাড়িতে করে তাদের নেওয়া হয় র্যাব সদর দপ্তরে, সেখানেই চলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।

তার আগে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অভিযোগকারী আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডার বাবদ বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে পুরোপুরি অর্থ পরিশোধ করা হয়। পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগের মাধ্যমে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা।

এতে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ইভ্যালি পণ্য প্রদান ও টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে যান। এসময় এমডি রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে অবস্থান করা রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসে তাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন ও পণ্য বা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ভয়-ভীতি ও হুমকিসহ তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। এতে তারা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছেন এবং পণ্য বুঝে না পাওয়ায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মামলার এজাহারে রাসেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধের কথা বলা হয়েছে। ফৌজদারি দণ্ডবিধির ধারাগুলো হচ্ছে- ৪২০, ৫০৬ ও ৪০৬।

অনেক দিন ধরেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক সভায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ ১০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে র্যাব।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এমডির সব ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব