মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হাইমচরে ২ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, সদস্য পদে ৬৫ ও সংরক্ষিত নারী আসনে ১৭ জনের সকল ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহিতা ও স্থানীয় সরকার ইএলজি প্রকল্পের গণশুনানী। হাইমচরে ইএলজি প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের সাথে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের সংলাপ। হাইমচরে নারী নির্যাতন বিরোধী সভা প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস আজ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ নিষ্ঠা-আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে দেশসেবায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে: রাষ্ট্রপতি বিশ্বের ১৮ দেশে পালিত হবে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস ইউপি নির্বাচন: ২৩ ডিসেম্বরের ভোট হবে ২৬ ডিসেম্বর

চবিতে আমাকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা হয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে (চবি) ঘিরে আমার অনেক অম্লমধুর স্মৃতি রয়েছে। চাকসু ভবনের সামনে থেকে ১৯৮৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর আমাকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তখন চট্টগ্রাম শহরে খবর রটেছিল আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমার শরীরে এখনো বহু নির্যাতনের দাগ আছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার দাগ যেমন আছে, আবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বহু নির্যাতনের দাগও আছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে চবির ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে এই জায়গায় এসে কথা বলা এবং আমার জীবনকে এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু অবদান আছে। প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে যে সাহস এবং শক্তি আমাকে যুগিয়েছে, পরবর্তীতে রাজনীতির কঠিন পথ পরিক্রমায় সেটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের বিতর্ক টিমের ক্যাপ্টেন হিসেবে তখন জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরের পথচলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশ ও জাতি গঠন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনগোষ্ঠী সৃষ্টি এবং দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ছাত্র-ছাত্রী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে, যারা মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। অনেকে রাজনীতিতেও তাদের অবস্থান সুসংহত করেছেন। অনেকে গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদান ও সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য নয়। একইসঙ্গে সেখানে জ্ঞানের চর্চা, সংস্কৃতি ও মুক্তমতের চর্চা হবে। আমরা একটা জ্ঞান ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা একটি বহুমাত্রিক সমাজে বসবাস করি। জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক বহুমাত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ছাড়া গণতন্ত্র সুসংহত হয় না। যেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হয় না, নিয়মনীতির ব্যত্যয় ঘটে, মুক্তবুদ্ধির চর্চা হয় না এবং মুক্তমতের অবদমন করা হয়, সেখানে সমাজ এগোয় না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যা মহানুভবতা দেখিয়েছেন। তার প্রতি যেই মহানুভবতা দেখানো হয়েছে, সেটি নজিরবিহীন। সেটি আমি ব্যক্তি হিসেবে কখনো দেখাতে পারতাম না, অন্য কেউও পারতেন না। খালেদা জিয়া নিজেও পারতেন কিনা, সেই প্রশ্নটাও করা উচিৎ। খালেদা জিয়া আদালত কর্তৃক খালাস পান নাই, জামিনও পান নাই। এরপরও তাকে কারাগারের বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি যখন কারাগারেও ছিলেন, তখন তার সঙ্গে একজন গৃহপরিচারিকাকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। এই উপমহাদেশে বৃটিশ আমলে এমন হয়েছে কিনা আমি জানি না। তবে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ আমলে হয়নি। এসব সম্ভব হয়েছে একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যার মহানুভবতার কারণে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া আবার সেই ব্যক্তি, যিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একুশে আগস্টে গ্রেনেড হামলা হয়েছে। সেই গ্রেনেড হামলার পর তিনি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে হাস্যরস করে বলেছিলেন, আমাদের নেত্রী নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া সেই ব্যক্তি, যার দুয়ারে দেশের প্রধানমন্ত্রী গিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট দাঁড়িয়েছিলেন তার পুত্রের মৃত্যুতে সমবেদনা জানানোর জন্য। তিনি দরজা খুলেননি। তিনি সেই ব্যক্তি, যাকে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত দিয়েছিলেন, তিনি সেদিন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি সেই মানুষ, যিনি নিজের জন্মের তারিখটা বদলে দিয়ে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের দিনে ভুয়া জন্মদিনের কেক কাটেন।

সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে সারাদেশে নৈরাজ্য চালাচ্ছে- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বিবৃতির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের রাজনীতি ফখরুল সাহেবরাই করেছেন। মানুষকে দিনের পর দিন অবরুদ্ধ করে রাখার রাজনীতি, স্কুলছাত্রের ওপর বোমা নিক্ষেপ, বিশ্ব ইজতেমা ফেরত মুসল্লির ওপর বোমা নিক্ষেপ, মসজিদের মধ্যে মুয়াজ্জিনের ওপর হামলা এসব কিছুই ফখরুল সাহেবরাই করেছেন। মানুষের ওপর হামলা, ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর হামলার রাজনীতি তারাই করেন। আমাদের দল এই রাজনীতির চর্চা করে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীন আখতার বলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন চবির ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, ১২ জন শিক্ষার্থীসহ তিনজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারি মোহাম্মদ হোসেনকে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হয়। গৌরবের ৫৬তম বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিনদিন আরও এগিয়ে যাবে।

চবির প্রক্টর ড. রবিউল হোসেন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর বেনু কুমার দে, সাবেক উপাচার্য আনওয়ারুল আজিম আরিফ, ড. এম বদিউল আলম, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাবেক মুখ্য সচিব ড. আবদুল করিম, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম, চাকসুর সাবেক ভিপি মাজহারুল হক শাহ, চাকসুর ভিপি নাজিম উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার এসএম মনিরুল হাসান প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব