শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ আর নেই!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ আর নেই । ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মওদুদ আহমদের একান্ত সহকারী মোমিনুর রহমান সুজন বলেন, ‘‘স্যার হাসপাতালে আইসিউতে ছিলেন। গত কয়েকদিন ধরেই তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিলে। টেলিফোনে জানানো হয়েছে সন্ধ্যা ৬ টায় স্যার মৃত্যুবরণ করেছেন।”

তিনি বলেন, ‘‘গত ১৫ দিন যাবত স্যারের ফুসফুসে পানি জমা হচ্ছিল। যার কারণে ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহন ক্ষমতা একেবারেই কমে গেছে। পাশাপাশি উনার কিডনি জটিলতাও দেখা দিয়েছে। আইসিইউতে নিয়ে উনার কিডনি ডায়োলেসিসও শুরু করার কথা রয়েছে।”

গেল ২ ফেব্রুয়ারি মওদুদ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ১০ মার্চ সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি। তিনি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৪ দলীয় জোট সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন মওদুদ আহমদ। তার বাবা মাওলানা মমতাজ উদ্দিন আহমদ এবং মা বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ মওদুদ।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়ে পুলিশি নির্যাতনের পর মওদুদ আহমদের ঠাঁই হয়েছিল কারাগারে। ঢাকা কলেজ ছাত্রসংসদের আপ্যায়ন সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অ্যাডভোকেট ফরমান উল্লাহ খান প্রতিষ্ঠিত খেলাফত রব্বানীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির নেতা ছিলেন।

পেশাজীবী হিসেবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে নানা ভূমিকায় নিজেকে রেখেছিলেন রাজনীতির কক্ষপথেই। কারাভোগ করেছেন পাকিস্তান আমল, বঙ্গবন্ধু, এরশাদ, ওয়ান ইলেভেন ও মহাজোট সরকারের আমলে।

শিক্ষাজীবনে মওদুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান পাস করে ব্রিটেনের লন্ডনের লিঙ্কন্স্ ইন থেকে অর্জন করেন বার-অ্যাট-ল। দেশে ফিরে হাইকোর্টে ওকালতির একপর্যায়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শামিল হয়েছিলেন আইনি লড়াইয়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব