1. admin@srejonbangla52tv.com : admin :
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
***পরীক্ষামূলক সম্প্রচার***
প্রধান খবর
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(কোয়াব)সুনামগঞ্জ শাখার পরিচিত সভা অনুষ্টিত! দিরাইয়ের বিবিয়ানা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের অপসারনের দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত! সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা। সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের উদ্যোগে শোকের মাসে এতিম শিশুদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ ! ইবি তরুণ কলাম লেখক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা! মানবতার সেবায়, এওজবালিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা’! এখন থেকে ১২ কেজি গ্যাসের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ৬০০ টাকা। দাম বেশি দেখলে ৯৯৯ এ কল করুন মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অটো চালকের মৃত্যু। সুনামগঞ্জে বিদেশে চাকরির লোভ দেখিয়ে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক ছাদিক ! মাদারীপুরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী কে এম এনামুল হক শামীম !

পরিবেশ রক্ষা করি ,গড়ি সোনার বাংলাদেশ !

  • শনিবার, ৯ মে, ২০২০
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে
লেখক আল আমিন সোহাগ
লেখক আল আমিন সোহাগ

সম্পাদকীয় – মো:আল আমিন সোহাগ : প্রায় ৭৫৫ কোটি মানুষের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব’—স্লোগান সামনে রেখে এ বছরের পরিবেশ দিবস পালিত হয়। সম্পদের ভোগ ও উপভোগ যাতে পৃথিবীর প্রাণশক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং প্রকৃতিকে বিরূপ করে না তোলে

পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরিবেশের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মানুষসহ সব প্রাণের অস্তিত্ব পরিবেশের উপরই নির্ভরশীল। কারণ পরিবেশই প্রাণের ধারক ও বাহক। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ প্রাণের অস্তিত্বের পক্ষে হুমকি। মানুষ যেমন তার প্রয়োজনে পরিবেশকে নিজের উপযোগী করছে; ঠিক তেমনি সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সাথে সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতিতে মানুষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে প্রাণের অস্তিত্ব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অসচেতনতা এবং অপরিকল্পিত পরিকল্পনা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ রক্ষা ও সংরক্ষণ করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ পরিবেশ সংকটের এই দায় সমগ্র মানব জাতির।

পরিবেশের সকল উপাদান আমাদের পরিবেশকে যেমন সুন্দর করে, আবার দূষিতও করতে পারে। প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশে একদিন জীবন সম্ভব হয়েছিল এ পৃথিবীর বুকে। বনাঞ্চলের পরিমাণ বেশি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় বায়ুমন্ডলে আমাদের তথা সমস্ত জীবকূলের বন্ধু অক্সিজেনের অভাব ছিল না। খাদ্য ও জলে ছিল সতেজ বিশুদ্ধতা। কিন্তু জীবনকে উন্নত করার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞান যখন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করল, অমনি পরিবেশ আর আগের মতো রইল না। বিজ্ঞানের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পৃথিবীতে ডেকে আনা হলো অতি যান্ত্রিকতা। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে তার যে সাম্যাবস্থা দীর্ঘকাল ধরে বজায় ছিল, তা ধীরে ধীরে বিঘ্নিত হতে শুরু করল। দূষিত হতে শুরু করল পরিবেশ। আজ এই পরিবেশ দূষণে সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে। বাযুমন্ডলে আর আগের মতো আজ বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়া খুবই কষ্টকর। পরিবেশ দিতে পারছে না জীবজগতের নিরাপত্তা। নির্বিচারে প্রকৃতি সংহার এবং কান্ডজ্ঞানহীন আবহাওয়া দূষিতকরণের মধ্যদিয়ে মানুষ পৃথিবীতে ডেকে এনেছে ক্ষয় ও অবক্ষয়ের মহামারি। বাংলাদেশেও একই অবস্থা বিরাজমান। আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়ে আমাদের পরিবেশ।

আর পরিবেশের মধ্যে যা কিছু থাকে তাদের বলা হয় পরিবেশের উপাদান। উপাদানের মধ্যে রয়েছে গাছপালা, ঘরবাড়ি, পশু পাখি, রাস্তাঘাট, নদীনালা, পাহাড়-পর্বত এবং আরও অনেক কিছু। এসব উপাদান মানুষ ও অন্যান্য জীবের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। এগুলোর ক্ষতি হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিজ্ঞানী কলিন ওয়াকারের মতে, রাসায়নিক, ভৌতিক ও জৈবিক কারণে পরিবেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যে ও যে কোন পরিবর্তনই হল দূষণ। ইউনেস্কো Earth summit & International Relation-এর দৃষ্টিতে পৃথিবী নামক গ্রহের প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা যা আমাদের সামাজিক, অর্থনেতিক ও রাজনৈতিক জীবনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে তাকে পরিবেশ দূষণ বলা হয়। পরিবেশ দূষণ বর্তমান বিশ্বে একটি বড় সমস্যা।

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ করছি। পরিবেশ আমাদের জীবনরক্ষাকারী বললে ভুল হবে না। বেঁচে থাকার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুই আমরা পরিবেশ থেকে গ্রহণ করে থাকি। প্রতি সেকেন্ডে আমরা যে অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকি তা পরিবেশের উপাদান গাছ থেকেই পেয়ে থাকি। প্রতিনিয়ত আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করে থাকি তা পরিবেশের দান। কিন্তু মানুষ নিজের জীবনকে শান্তিতে পার করার উদ্দেশ্যে বন কেটে বাড়ি নির্মাণ, গাড়ি তৈরি, সড়ক নির্মাণ করছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি বয়ে আনছে। আমাদের জীবনযাত্রায় আজ একদিকে বিজ্ঞানের বিজয় গৌরব, অন্যদিকে দূষণের দুঃস্বপ্ন। বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণের মতো ক্ষতিকর প্রভাব এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। পরিবেশ দূষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বায়ুদূষণ। বায়ুতে সাধারণত শতকরা ২১ ভাগ অক্সিজেন, ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন, ০.০৩১ ভাগ কার্বন ডাই অক্সাইড, একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে ওজন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি দ্বারা গঠিত। যদি কোন কারণে বায়ুতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়ে অন্যান্য গ্যাসের ঘনত্ব বেড়ে যায় অথবা বালিকণার ভাগ বৃদ্ধি পায় তবে বায়ু দূষিত হয়।

বায়ু দূষণ গত এক শতাব্দী হতে শহর ও শিল্প এলাকার কোটি কোটি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাচীনকালে যখন আগুন আবিষ্কৃত হল, তখন থেকেই বেঁচে থাকার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান অক্সিজেনের ধ্বংসলীলা সূচীত হয়। আগুন বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস করে জীবনের অনুকূল পরিবেশের ভারসাম্যই শুধু নষ্ট করে না, ধোঁয়া এবং ভস্মকণায় তাকে করে তুলেছে কলুষিত। গাছপালা কার্বনডাই অক্সাইড গ্রহণ করে প্রাণীর জন্য অক্সিজেন ফিরিয়ে দেয় এ পৃথিবীতে। কিন্তু মানুষ নগর জনপদ গড়ে তোলার প্রয়োজনে বিরামহীনভাবে কঠোর হাতে তুলে নেয় নিষ্ঠুর কুঠার । ফলে অক্সিজেনের উৎপাদক দুঃখ প্রকাশ করে পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণ করে। কিন্তু মানুষের মায়ার হাত একটুও প্রসারিত হয় না বৃক্ষের প্রতি। যানবাহনও বায়ু তথা পরিবেশকে নানাভাবে দূষিত করে। গাড়ি যখন চলে তখন অক্সিজেনের সাথে কার্বনের দহন শক্তি উৎপন্ন হয়। দহনকার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হলে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের সঙ্গে আরও কতগুলো গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে। নির্গত গ্যাসগুলোর মধ্যে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসও থাকে। কলকারখানার ক্ষেত্রে যে দূষিত পদার্থ কালো চুল্লী দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে বাতাসকে বিষাক্ত করে তোলে, তার পরিণতির কথা ভাবলে য়েকোনো সুস্থ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়বেন। বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে আর একটি দিকের কথা উল্লেখ করা যায়।

তা হল ধোঁয়াশা। ধোঁয়া আর কুয়াশা অবলম্বন করে এর উৎপত্তি। শীতের সন্ধ্যায় স্তব্ধ আবহাওয়ায় ধোঁয়াশার উৎপত্তি ঘটে এবং এর অস্তিত্ব শহর ও শহরতলীর পরিমন্ডলে অধিক মাত্রায় রয়েছে। শীতকালে ঠান্ডা হাওয়ায় বাতসের জলীয়বার ঘনীভূত রূপ বাতাসের ধুলিকণা ও কার্বনের কণাকে অবলম্বন করে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে। যে বাতাসে আমরা শ্বাস গ্রহণ করি, সেই বাতাসই যদি দূষিত হয়ে পড়ে, স্বাভাবিকভাবেই তা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হয়। আজ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মাথা ধরা, শ্বাসরোগ, হাঁপানি, ফুসফুসে ক্যান্সার প্রভৃতি রোগ যে ক্রমবর্ধমান, তার মূল কারণ বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি। গ্রামের মানুষও আজ বায়ুদূষণ থেকে মুক্ত নয়। পানির অপর নাম জীবন।

কিন্তু এই পানি আজ দূষিত হচ্ছে বিভিন্নভাবে। কোন জলাশয়ে শিল্পজাত বা গৃহস্থালীর বর্জ্য পদার্থ পানিতে বিগলিত হয়ে বা ভাসমান থেকে অথবা তলায় জমে থেকে জলজ বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ব্যাঘাত ঘটালে তখন আমরা একে পানি দূষণ বলে থাকি। দূষিত পানি মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ব্যবহারের ফলে অবস্থানগত পরিবর্তিত হয়ে পড়ে, ফলে ঐ পানি যে সব উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতো এখন তা করা যায় না। ভূমন্ডলের শতকরা ৭০ ভাগ পানি দ্বারা আবৃত। সাগর, নদী, বিল, হ্রদ ইত্যাদির পানি বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই পানি যদি কোন কারণে দূষিত হয়ে পড়ে, তাহলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। নদীনালা, খালবিলের পানিতে কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য এবং শহর ও গ্রামের পয়ঃবর্জ্য মিশে পানি দূষিত করছে। শস্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গিয়ে পানিতে মিশে পানি দূষিত করে। দূষিত পানিতে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী বাস করতে পারে না। জলজ উদ্ভিদও জন্মায় না। দূষিত পানি ডায়রিয়া, জন্ডিস, পাঁচড়া, টাইফয়েড ইত্যাদি নানা রকমের রোগ ছড়ায়। দূষিত পানি রান্না, ধোয়ামোছা, গৃহস্থালি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায় না। এ পানিতে গোসল করলে চুলকানি, খুঁজলি পাঁচড়া ইত্যাদি নানা রকমের চর্মরোগ হয়। পানি যদি কোনো কারণে দূষিত হয়ে পড়ে , তাহলে আমাদের জীবন সঙ্কটময় হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর তীরে অসংখ্য কলকারখানা গড়ে ওঠেছে। শিল্প উৎপাদনে নিয়োজিত বিভিন্ন কারখানায় নানারকম রাসায়নিক ও বর্জ্য বস্তু নিয়মিতভাবে নদীগর্ভে নিক্ষিপ্ত হয়। শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীগর্ভে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ নদীর পানিকে কতটা দূষিত করে, সঠিক বিচারে তা বলা শক্ত। তার উপরে গৃহের উচ্ছিষ্ট এবং পৌর কর্পোরেশনের আবর্জনা সেই দূষণ ক্রিয়াকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। লঞ্চ-জাহাজ থেকে নির্গত তেলও পানি দূষণের একটি অন্যতম কারণ। শুধু নদীর পানি নয়, গ্রামের পুকুর, খাল-বিলের পানিও নানা কারণে দূষিত হয়। নালানর্দমার সঙ্গে পুকুরের যোগ আছে। তাছাড়া বাড়িঘর এবং বিবিধ আবর্জনার শেষ আশ্রয়স্থল বিভিন্ন জলাশয়। ফলে, জলাশয়ের পানি যেখানে পানীয় জলের অবলম্বন, সেখানে জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার গুরুতর আশঙ্কা আছে। পানি দূষণ আধুনিক সভ্যতার এক অভিশাপ। গ্রামে নদীর পানিতে, পুকুরে প্রচুর আবর্জনা ফেলা হয়, পাট পঁচানো হয় ফলে পানি দূষিত হয়। বায়ু ও পানি দূষণের সাথে সাথে শব্দ দূষণের কথাও উল্লেখ করার মতো।

গ্রামে কম হলেও শহরে এ দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। রাস্তায় বাস, ট্রাক, ট্যাক্সির হর্ন, কলকারখানার আওয়াজ, বোমাবাজি, মাইকের চিৎকার, মিছিলের ধ্বনি প্রতিধ্বনি এসবই স্বাভাবিক পরিবেশকে নষ্ট করে আমাদের শান্তিপূর্ণ জীবনকে বিঘ্নিত করছে। বাতাস-পানি দূষণ নিয়ে আমাদের মাথা তীব্র ব্যথা করে। পরিবেশ দূষণ নিয়ে বক্তৃতা-সেমিনার দেশ-বিদেশে কম হচ্ছে না। কিন্তু পরিবেশকে নিজের আয়ত্তে আনতে পেরেছি কী ? জবাব আসবে খুবই ছোট্ট। আর তা হচ্ছে পারিনি। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রী, শিশু-কিশোর, কিংবা কচি-কাঁচা সকলের কাছে শব্দ দূষণকেও পরিবেশ কিংবা ব্যক্তি জীবনের কষ্টদায়ক ফল বলে মনে হচ্ছে। বাসস্ট্যান্ড, মাঠঘাট এমনকি স্কুলের পাশেও উচ্চস্বরে মাইক বাজছে, যার তীব্রতা অনেক বেশি। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে ৫০ ডেসিবেলের উপর শব্দের তীব্রতা সৃষ্টি হলে তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নগরীতে এর মাত্রা ৫০ ডেসিবেলের অনেক উপরে। শহর বাদেও গ্রামে এখন মেলা, যাত্রা, গানের জলসা নামক অনুষ্ঠানে অহরহ শব্দ দূষণ হচ্ছে।

ক্যাসেট-সিডি, মাইকের দোকানে দিনের অধিকাংশ সময় উচ্চমাত্রায় গান বাজে। এতে স্কুলগামী ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখায় দিনে দিনে মনোযোগ হারাচ্ছে। মায়ের গর্ভে থাকা শিশুরা জন্মের পর বিভিন্ন বিকৃত আচরণ করছে। শুধু তাই নয়, শব্দ দূষণের ফলে হৃদরোগ, মাথাব্যথা, বধিরতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে পারমাণবিক যুগ। কাঠ, কয়লা এবং তেল দহনের ফলে বায়ুমন্ডল যে পরিমাণে দূষিত হয়, পারমাণবিক দহনে দূষণের পরিমাণ তার চেয়ে কয়েক লাখগুণ বেশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্তিমবর্ষে পারমাণবিক বোমা বর্ষণের ফলে জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিই ধ্বংস হয়নি, তার প্রবল প্রতিক্রিয়ায় সন্নিহিত ভূখন্ডের মানুষ, জীবজন্তু এবং উদ্ভিদের সুস্থ অস্তিত্বও বিপন্ন হয়ে পড়ে। এই বিষময় পরিণামের কথা স্মরণ রেখেও পৃথিবীর ঘরে ঘরে এখনও চলছে পারমাণবিক বোমার প্রস্তুতি। পরীক্ষামূলকভাবে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ফলে বায়ুমন্ডলকে যে পরিমাণে বিষাক্ত করে তোলা হয়, বায়ুমন্ডলকে সেই পরিমাণ বিষমুক্ত করে তার পরিশোধনের বিনদুমাত্র প্রয়াস নেই। তা ছাড়া প্রচন্ড শক্তিশালী রকেটের সাহায্যে মহাকাশ অভিযানেও উপগ্রহ উৎক্ষেপণে যে পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে নিক্ষেপ করা হয়, তাতেও আবহাওয়া দূষিত করে চলেছে পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো। আমরা প্রতিদিন পলিথিন ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ব্যবহার করছি।

কিন্তু এ পলিথিন ও প্লাস্টিক মাটিতে পচে না। তাই এগুলো মাটি বা পানির সঙ্গে মিশে যায় না। মাটিতে পলিথিন বছরের পর বছর অবিকৃত অবস্থায় থাকে। এরূপ মাটিতে গাছপালা ভালভাবে জন্মায় না মাটির নিচে পলিথিন অথবা প্লাস্টিক থাকার কারণে উদ্ভিদের মূল মাটির গভীরে যেতে পারে না এতে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এটা এক ধরনের মাটি দূষণ। পলিথিন ও প্লাস্টিক ছাড়া কলকারখানার বিভিন্ন বর্জ্য মাটিতে জমে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং একে দূষিত করে। দূষিত মাটিতে কোন গাছপালা জন্মায় না। চাষাবাদ করে ফসল ফলানো যায় না। ভালো ফসল ফলানোর জন্য এবং কীট-পতঙ্গের হাত থেকে ফসলকে রক্ষার জন্য কৃষকেরা অপরিকল্পিতভাবে জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছে। এতে মাটি দূষণের সাথে সাথে জীবজগতে বিপন্ন অবস্থা দেখা দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে আমাদের রয়েছে অনেক দায়িত্ব। নাগরিকের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ সুন্দর রাখাও আমাদের দায়িত্ব। সরকার পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের আইন প্রণয়ন করেছে। গ্রহণ করেছে বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ড। যেমন- ২০০২ সালে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

অতিথি পাখি ধরা ও শিকার করা আইনত নিষিদ্ধ। পাহাড় কাটা ও জলাভূমি ভরাট ইত্যাদি বেআইনি কাজ। নাগরিক হিসেবে এ সকল আইন মেনে চলা আমাদের কর্তব্য। সমাজের অন্যরাও যেন সকল আইন মেনে চলে সে বিষয়ে আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত। এছাড়া সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রাস্তাঘাট পরিষ্কারের মতো যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে নেয় সেখানে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য চাই সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে। তাই সচেতন করে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধকল্পে প্রতিবছর ৫ জুন জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বপরিবেশ দিবস পালিত হচ্ছে। কিন্তু তা বক্তৃতা-সেমিনার ঘেরা এক নি্রাণ আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বিশ্বের জ্ঞানপাপীর দল বিশ্বপরিবেশ দিবস পালন করে, দূষণের জন্য চোখের পানিও ফেলে, আর সাহসিকতার সাথে আবার পরিবেশ দূষিত হয় এমন কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশের ভূমিকা একেবারেই নগণ্য। আর পাশ্চাত্যেও শিল্পোনণত দেশগুলো প্রায় ক্ষতিকর ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু পরিবেশ দূষণের ফলে বাংলাদেশ তার সমুদ্রতীরবর্তী নিচু অংশ হারাবে বলে বিজ্ঞানীরা বলেছেন। অন্য দেশ পরিবেশ দূষণ করবে আর আমাদের মতো সুস্থ পরিবেশ তৈরিতে সহায়তাকারী দেশ এর মারাত্মক ক্ষতিকর ফল ভোগ করতে হবে, তা হতে পারে না। এক্ষেত্রে আমাদের মন্ত্রী-আমলাদেরকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করতে হবে। তারা যেন পরিবেশ দূষণের কাজ না করে সে বিষয়ে অবহিত করতে হবে। অতীতে বাংলাদেশের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে।

যানবাহন থেকে নির্গত বিষাক্ত পদার্থযুক্ত কালো ধোঁয়া যাতে বন্ধ করা যায়, তার জন্য পুরোনো ইঞ্জিনচালিত গাড়ির চলাচল নিষিদ্ধ করা দরকার। ধূমপায়ীদের বিরুদ্ধে যে নীতিমালা রয়েছে, তার বাস্তবায়নও জরুরি। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর মনোভাব দেখাতে হবে। কলকারখানা বা ইটের ভাটাগুলো শহর বা জনবসতির কাছাকাছি না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অপরিকল্পিতভাবে জমিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার থেকে কৃষকদের বিরত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। জৈব আবর্জনা না পুড়িয়ে পচানোর মাধ্যমে সারে পরিণত করা যায় তা কৃষকদেরকে বুঝাতে হবে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণও খুব কঠিন কাজ নয়। হর্ন ও মাইকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশেষ করে স্কুলের পাশে যেন হর্ন, মাইক বাজানো না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তার পাশে যেন স্কুল, হাসপাতাল নির্মাণ করা না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশ্বপরিবেশ দিবসে বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলতে হবে- ‘আজ আর পরিবেশ দূষণ নয়, চাই তার বিশুদ্ধকরণ।’ আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে আমাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। আগামীর প্রজন্ম যেন আমাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তার ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে। পরিবেশ দূষিত হয় এমন সকল কাজ থেকে দূরে থাকা এবং উপকারী সকল কাজ আরও বৃদ্ধি করা আমাদেরই দায়িত্ব। আর এ দায়িত্ব পালন না করলে পরিবেশ দূষণজনিত অপমৃত্যু কেউ ঠেকাতে পারবে না। তাই আমাদের শ্লোগান হোক- Live and let live. অর্থাৎ, বাঁচ এবং বাঁচতে দাও। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বসবাস করতে হলে দূষণমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন।

পরিবেশ দূষণমক্ত রাখতে হলে আমাদের সবাইকে পরিবেশ দূষিত করে এমন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। দূষণ প্রতিরোধের জন্য জনবসতি ও সভ্যতার সম্প্রসারণের প্রয়োজনে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে। অরণ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব না হলেও যেখানে সুযোগ আছে, সেখানেই গাছ লাগাতে হবে। কলকারখানার বর্জ্য যাতে পরিবেশ দূষিত না করে সেজন্য বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে। বায়ু দূষণ রোধের জন্য গাছপালার প্রতি যত্নশীল হতে হবে। বাড়ির আশেপাশে গাছপালা লাগাতে হবে। বনায়নের পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ কর্মকান্ডে অংশ নিতে হবে। গাছের যত্ন এবং অপ্রয়োজনে গাছপালা কাটতে জনগণকে নিষেধ করতে হবে।

ভালো লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর
© All rights reserved 2020 srejonbangla52tv

প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তাঃ WhatHappen