1. admin@srejonbangla52tv.com : admin :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৭:১৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
***পরীক্ষামূলক সম্প্রচার***
প্রধান খবর
রাতের আঁধারে দেয়াল ভেঙে নগদ অর্থ ও ল্যাপটপ চুরি! মাদারিপুর লঞ্চঘাট ভাঙ্গন পরিদর্শনে আসেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী জনাব এনামুল হক শামীম ! মৃত্যুকে করিনা ভয় যদি আসে পরাজয় ! ফের ইবিতে ছুটি বৃদ্ধি ! নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বয়স্ক ভাতার ঘুষ বানিজ্যে বয়স্ক কৃষককে হত্যা! লক্ষ্মীপুর জেলায় রায়পুরে জোয়ারের ১২ গ্রাম পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলায় আহত -২, ঘর-বাড়ী ভাংচুর লক্ষ্মীপুর কমলনগরে হঠাৎ বন্যায় সাড়ে ৫ হাজার ডিম মুরগী পানিবন্ধী অবস্থায় মারা যায়। লক্ষ্মীপুরে বিষাক্ত সাপের ছোবলে যুবক কৃষকের করুন মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে লোকের ছায়া! অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যায় জড়িত কেউ পার পাবে না: কাদের

একজন সফল মানুষের জীবন শুরুর গল্প!

  • শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

আমার পড়াশোনা ও বাবার সংগ্রাম–১

লেখক- মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন: জগতের সকল সন্তানের নিকট তার পিতামাতার মূল্য অপরিসীম। বাবা মায়ের উছিলায় এ ধরাধামে সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলকেই পাঠান। সকল সন্তান মাত্রই তাই তার পিতামাতার নিকট দায়বদ্ধ সারাজীবন। জগতের তাবৎ সন্তানই বাবার জন্য গর্বিত হয়। বাবা দিবস, মা দিবস এলে বাবা মায়ের গুনগানের বর্ণনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতেও আজকাল হাহাকার উঠে। কিন্তু একদিনের উদযাপন, লেখালেখি বা স্মৃতিচারণে আমার বড্ড আপত্তি।

আমি জীবনে তেমন কিছুই হতে পারিনি, কিন্তু যা হয়েছি বা যা কিছু অর্জন আমার তা শুধু বাবারই জন্য হয়েছে। তাই আমার জীবনের প্রতিটি দিনেই তিনি মিশে আছেন আমার সাথে, আমার আনন্দে, আমার হাসিতে , আমার প্রার্থনায়। আমি কোন লেখক, সাহিত্যিক নই। আমার মনের ভিতরের আবেগ, ভালোবাসার বিস্তার যতখানি তার সঠিক চিত্র বর্ণমালায় সাজাতে পারবো কিনা আমি যথেষ্ট সন্দিহান থাকি বলে লিখতেও সাহস পাই না। যদি ঠিকঠাক বোঝাতে না পারি ! তবুও ইদানিং এলোমেলো কথামালায় বাবার কথা গুলো সবাইকে শুনাতে ইচ্ছে করে সংক্ষেপে নয় সবিস্তারে।আমার বাবা মরহুম ডাঃ বজলুর রহমান।

এলাকায় বজু ডাক্তার হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। বাবা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে ফার্মাসিস্ট পদে সরকারী চাকুরী করতেন। ১৯৯৩ সালে চাকরীর ২৫ বছর পূর্ণ হলে সেচ্ছায় অবসর গ্রহন করেন। আমরা সাত ভাইবোন। চারভাই, তিন বোন। আমি ভাইবোনদের মধ্যে পঞ্চম। আমার বড় দুই ভাই, দুই বোন এবং ছোট একভাই, একবোন। বাবা তার ছোট চাকরি করে এ বৃহৎ পরিবারটি সামলাতেন। উনার পৈতৃক ভূসম্পত্তি তেমন কিছু ছিলো না পৈতৃক ভিটে বাড়ি ছাড়া।

চাকরি করে একটু একটু করে জায়গা সম্পত্তি ক্রয় করেন তবে বিভিন্ন সময়ে আবার চরাঞ্চলের বেশ কিছু জমি বিক্রিও করে দেন নাম মাত্র মূল্যে। তবে পেনশনের টাকায় আরো কিছু জায়গা জমি ক্রয় করায় বাবার হাত ছিল একদম শূন্য। বাবার চাকরী হতে অবসরকালীন উনার পাওয়া মাসিক পেনশন, স্থানীয় বাজারের একটা ওষধের দোকান এর আয় সাথে জমি হতে পাওয়া সামান্য ফসল দিয়েই মিটতো আমাদের পারিবারিক ব্যয়।

বাবা বড় দুই ভাইকে মনের মতো গড়ে তুলতে না পেরে একসময় আমার দিকেই তিনি বিশেষ মনোযোগী হন। মূলত আমার অন্তঃমূখী আর ঘরকুনো স্বভাব বাবার খুব পছন্দ ছিল। অফিস শেষে বাড়িতে ফিরেই আমাকে পেতেন তিনি। বাবার একটি সাইকেল ছিল। সাইকেলের আওয়াজ শোনা মাত্রই আমি দৌড়ে বাবার কাছে হাজির হতাম। আমার বড় ভাইয়েরা তখন কে কোথায় থাকতেন সে হদিস বাড়ির কারোরই জানা থাকতো না। আর বাড়িতে থাকলেও কোন এক অজানা কারনে তারা বাবার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতো। অফিস থেকে ফিরে হাতমুখ ধূয়ে খাওয়া দাওয়া শেষে আমার বইপত্র নিয়ে বসে পড়া ছিল বাবার ব্যাপক উৎসাহপূর্ণ এক রুটিন কাজ। দ্বিতীয় শ্রেণী হতে তৃতীয় শ্রেণীতে রোল নাম্বার এক পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া ছিল জীবনের এক মাইলফলক ঘটনা। আমাকে নিয়ে লেখাপড়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য যেন এক পণ করে বসেন বাবা।

স্কুলের জনপ্রিয় শিক্ষক সুলতান স্যারকে দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ে আমার পড়াশোনা দেখভালের দায়িত্ব। স্যার তখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ক্লাশ শেষে পড়াতেন। আমাকেও তৃতীয় শ্রেণীতে থাকতেই সেই দলে ভর্তি করে নেন। অল্প সময়েই স্যারের প্রাইভেট ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে আমারও একটা অবস্থান তৈরী হয়। বিশেষ করে তাদের এক কথায় প্রকাশ, লিঙ্গান্তর পড়ানোর সময় আমার অংশগ্রহন ছিল স্যারের জন্য ব্যাপক উৎসাহ ব্যাঞ্জক। আমার যটপট উত্তর অনেক সময় বড় ভাইদের চমকে দিত। আমার বাবা ছিলেন আমার গৃহ শিক্ষকের মতো আর স্কুলে সুলতান স্যার। মূলতঃ বাবা এবং স্যার আমার মাঝে জীবনে একটা বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন বীজ প্রথম বপন করেছিলেন।

পঞ্চম শ্রেণীতে যখন বৃত্তি পেলাম তখন বাবা মোটামুটি স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন যে আমাকে দিয়ে পড়াশোনা হবে। স্থানীয় জমিদার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে আমাকে ভর্তি না করিয়ে ভর্তি করান আমাদের এলাকা হতে বেশ দূরে নোয়ান্নই ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেসময় নোয়াখালী সদর পশ্চিম অঞ্চলে বিদ্যালয়টির ব্যাপক সুনাম ছিল। আমিও আল্লাহর রহমতে সপ্তম শ্রেণীতে মেধা তালিকায় প্রথম হই এবং সেই ধারাবাহিকতা দশম শ্রেণী পর্যন্ত অব্যাহত রাখি।

বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মরহুম সুলতান মাহমুদ স্যারের ন্যায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীতেও ভর্তির পর পরই বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষক জনাব মোঃ মনির আহমেদ স্যারকে আমার পড়াশোনার দায়িত্ব প্রদান করেন।পরবর্তীতে স্যার দশম শ্রেণী পর্যন্ত আমাকে সকল বিষয়ে বিদ্যালয়ে পড়ান।স্যার আমার লেখাপড়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। সিলেবাস এর বাহিরের টপিকসও পড়াতেন।সাধারণত সকল ছাত্র ছাত্রীদের বেছে বেছে গুরুত্বপুর্ণ বিষয়াদি পড়ানো হলেও আমার ক্ষেত্রে বই এর আদ্যপান্ত ছিল আমার সিলেবাস।
বিদ্যালয়ে যেমন স্যার ছিলেন বাড়িতে তেমনি বাবা। আমার খাবার দাবারের প্রতি বাবার বিশেষ নজর ছিলো। প্রতিদিন দুধ, ডিম খেতেই হতো। রাত বেশী জাগতে দিতেন না বাবা। শোয়ার আগে আমার মশারি টানিয়ে দিতেন পরম মমতায়। আমার রুমে আমার ভাইবোনদের প্রবেশাধিকারেও কড়াকড়ি ছিল। বাবা থাকলে কেউ আমার রুমের পর্দা ভেদ করার সাহসও করতো না। আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হতো। আমি কি আর সব সময় পড়ি! যাইহোক একধরণের কড়া শাসন, সবাই একরকম মেনই নিয়েছে।

বাড়ির কাছে নানার বাড়ি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতে বিদ্যালয় থেকে ফিরলেই খেলতে যেতাম। কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসে সে সুযোগটি আর রইলো না। নানাবাড়ি, বোনদের বাড়ি কারো বাড়িতে বেড়ানোর সুযোগ পেতাম না বাবার কড়াকড়িতে। অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা সমাগত। নোয়াখালী গার্লস স্কুলে সিট পড়েছে। আমাদের এলাকা হতে শহর প্রায় নয় দশ কিলোমিটারের পথ। সহপাঠিরা সবাই যার যার বাড়ি থেকে প্রতিদিন গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আবার ফিরে আসবে। বাবা বললেন ভিন্ন কথা। আমাকে মাইজদী শহরে একটা বোর্ডিং এ রাখা হবে যাতে আমার ভ্রমন জনিত কষ্ট না হয়। শেষমেষ জামে মসজিদ রোডের হিযবুল্লাহ বোর্ডিং এ থেকেই বৃত্তি পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

আমার জীবনে ১৯৯৩ সালটি খুবই গুরত্বপূর্ণ। সে বছর আমি নবম শ্রেণীতে উঠি। কিছুদিনের মধ্যে অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। আমি টেলেন্টফুলে বৃত্তি লাভ করি। কিছুদিন পর নোয়াখালী ফাউন্ডেশন বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় এবং আমাদের বিদ্যালয় হতে আমি একমাত্র বৃত্তি প্রাপ্ত হই। আমার এমন ফলাফলে বাবার বাধ ভাঙ্গা উচ্ছাস ছিল দেখার মতো। মোটামুটি বাবার স্বপ্নময় পথেই যেন হাটছি। তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে আমার স্যারদের মিষ্টি মুখ করান। সে বছর বাবার চাকরীর ২৫ বছর পূর্তিতে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক এর মাধ্যমে তিনি সেচ্ছায় অবসর গ্রহন করেন। নিজের একটি সন্তানকে অন্ততঃ মানবসেবার জন্য গড়ে তোলার প্রয়াসে আরো বেশি সময় দেয়ার জন্য তিনি চাকুরিকাল ২৫ পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে গন্ডিবদ্ধ চাকরি হতে সেচ্ছায় অবসর নিয়ে নেন। এমন বিরল দৃষ্টান্ত আর কোথাও কেউ রেখেছেন কিনা আমার জানা নেই।

ধীরে ধীরে এসএসসি পরীক্ষার সময় সমাগত। কেন্দ্র নোয়াখালী জিলা স্কুল। আবার একই সিদ্ধান্ত বাবার- বাড়ি থেকে আসা যাওয়া নয়, শরীরের উপর কোন ধকল দেয়া চলবে না। শহরের যে কোন বোর্ডিং এ থাকতে হবে। আমি শহরের নামকরা একটা বোডিং এ থেকেই পরীক্ষা দিয়েছি। ফলাফল মোটামুটি আশাব্যাঞ্জক ছিল যদিও স্যাররা বোর্ড স্ট্যান্ড না করার জন্য মানবিক বিভাগে ভর্তি না হওয়াকে দায়ী ভাবছেন। ছয় বিষয়ে লেটার্স মার্কস নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলাম এসএসসি পরীক্ষায়।

এরপর কলেজ ভর্তি নিয়ে শুরু হলো আবার বাবার দৌঁড় ঝাপ। এর কাছে শুনেন তো আবার ওর কাছে পরামর্শ নেন। ঢাকায় নিকটাত্মীয় কেউ না থাকায় এবং নিজ জেলার পাশাপাশি হওয়ায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজেই ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেসময় মার্কসের ভিত্তিতে কলেজে ভর্তি করানো হতো। একদিন কলেজে ভর্তি শেষে আবার সেদিনই বাবার সাথে নোয়খালী ফিরে আসি। তারপর বাবা একবার কুমিল্লায় গিয়ে ছোটরা এলাকায় আমার জন্য মেস ঠিক করে আসেন। তার কিছুদিন পর কোন এক কাকডাকা ভোরে জীবনে প্রথমবারের মতো বাড়ির বাহিরে থাকবো বলে বিছানাপত্র নিয়ে বাবার সাথে বের হই নতুন দিনের প্রত্যাশায়। শুরু হয় বাবার এবং আমার নতুন আর এক যুদ্ধ। (ক্রমশ..)

ভালো লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর
© All rights reserved 2020 srejonbangla52tv

প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তাঃ WhatHappen