মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আপন দূলাভাই কর্তৃক ১১ বছরের শ্যালিকা ধর্ষিতা সে সাত মাসের অন্তঃসত্তা! সুধারামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণ, থানায় মামলা দায়ের! সুনামগন্জের দোয়ারাবাজারে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা! মহানবী (সা.) কে অবমাননা: কুয়েতের পর এবার ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে কাতার ! সমাজ কল্যাণ মূলক কার্যক্রম উপলক্ষ্যে মাদারীপুরে “শান্তির পথে সমিতির” মত বিনিময় সভা! একজন শিক্ষা গুরুরত্নের মৃত্যু খলিফারহাট অঞ্চলে শোকের চায়া! নোয়াখালীর প্রবীণ সাংবাদিক আহসান উল্যাহ মাষ্টারের ইন্তেকাল ঢাকা ধামরাইয়ের বিভিন্ন মন্দিরে মাস্ক বিতরণ! আলী হোসেন খান সহ ২জনের বিরুদ্ধে, চাঁদাদাবীর অভিযোগ ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ ! সুনামগঞ্জ সদরে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন!

সময়ের আয়োজন পত্রিকা ও সৃজন বাংলা ৫২ টিভির উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক জনাব মোহাম্মাদ নাজিম উদ্দিন স্যার এর শ্রদ্মেয় বাবার ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী।

নিজেস্ব প্রতিবেদক: মরহুম ডাঃ বজলুর রহমান নিজ ইউনিয়ন এবং গ্রামে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আলোকিত সমাজ গড়া ও শিক্ষা দীক্ষা প্রসারে নোয়াখালী সদর উপজেলার ৮ নং এওজবালিয়ার পশ্চিম করিমপুর গ্রামের মানুষের এবং এলাকার সমাজ সেবায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলেন । আনুমানিক ১৯৩৮ সালের দিকে বাবার জন্ম। পাঁচ ভাইবোনের মাঝে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

তিনি তাঁর বড় ভাই এর চাকরীর সুবাধে বরিশাল বিএম স্কুল এন্ড কলেজে পড়াশোনা করেন এবং উক্ত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া সম্পন্ন করেন।বাবার কর্মময় জীবনের শুরু হয় ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সিএনবি ডিপার্টমেন্টে একটি ছোট পদে যোগদানের মাধ্যমে। তিনি দু্ই বছর তিনি উক্ত চাকরী করেন।

পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান স্বাস্থ্য বিভাগে ফার্মাসিস্ট পদে যোগদান করেন। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নাজির হাট স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কক্সবাজার জেলার উখিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্র, নোয়াখালী জেলার বসুরহাট স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বেগমগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বজরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ হতে তাঁকে চরবাটা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি আট বছর উক্ত হাসপাতালের অফিসার ইন চার্জ হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে সেসময় নোয়াখালী জেলার প্রত্যন্ত এলাকার উক্ত হাসপাতালটি ২০ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতালে উত্তীর্ণ হয়।

সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য তৎকালীন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বাবাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়, সেসময়ে যা ছিল অত্যন্ত বিরল এক প্রাপ্তি। পরবর্তীতে তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার খলিফার হাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করেন। চাকুরীকালীন বিভিন্ন জায়গায় মানুষের বিভিন্ন দুঃখ দুর্দশা বেশ কাছ থেকে দেখেছেন এবং মানুষের বিপদ আপদে তিনি বেশ পিড়ীত হতেন।

চাকরী জীবনেই নিজ এলাকার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িত করেন। এসব জনসেবামূলক কর্মকান্ডে নিজেকে আরো সম্পৃক্ত করার প্রয়াসে ১৯৯৩ সালে চাকরীর ২৫ বছর পূর্তিতে গন্ডিবদ্ধ চাকরী হতে তিনি গোল্ডেন হ্যান্ডশেক এর মাধ্যমে সেচ্ছায় অবসর গ্রহন করেন। অবসর উত্তর জীবনে তিনি স্থানীয় এলাকায় প্রতিদিন সকাল বিকাল রোগী দেখতেন, মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এলাকার গণ্য মান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর চেম্বারে সমবেত হতেন। এ সময় এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা হতো এবং এলাকার উন্নয়নে সকলে পরামর্শ করতেন।

তিনি সেসময় স্থানীয় জমিদার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের “বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি”র সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি উক্ত বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি নিজ গ্রামে পশ্চিম করিমপুর জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন এবং আমৃত্যু মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্থানীয় জমিদার হাট বাজার পরিচালনা কমিটি এবং জমিদার হাট বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সেসময় এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মরহুম ডাঃ বজলুর রহমান সরকারী চাকুরী হতে অবসরগ্রহনের পর থেকে স্থানীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। আমৃত্যু তিনি আমাদের এওজবালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ১নং সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় রাজনীতিতে উনার সাংগঠনিক দক্ষতা ব্যাপক প্রশংসনীয় ছিলো। স্থানীয় যেকোন শালিশী বৈঠকে উনার সততা, কঠোরতা এবং ন্যায়বিচারের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিলেন।খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসার জন্য তিনি নিজ এলাকার জনসাধারণের নিকট ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন।

শ্রমজীবি মানুষকে তার কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে পারিশ্রমিক পরিশোধ করার ক্ষেত্রে এলাকার দৃষ্টান্ত ছিলেন। খেটে খাওয়া মানুষকে খাওয়াতে তিনি ভালোবাসতেন। মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করার শিক্ষা তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন।তাঁর শতগুনাবলীর মাঝে যে গুনটির জন্য মানুষের মাঝে হাজার বছর বেঁচে থাকবেন তা হলো শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও ভালোবাসা। সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে তিনি তার সর্বস্ব হারাতেও পিছপা হননি।

এ মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী সবার প্রিয় মরহুম ডাঃ বজলুর রহমান ২০১৩ সনের ১৮ই সেপ্টেম্বর আজকের এ দিনে মৃত্যু বরণ করেন। আমরা সময়ের আয়োজন পত্রিকা ও সৃজন বাংলা পরিবারের পক্ষে থেকে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং দেশবাসির কাছে দোয়া কামনা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব