মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শান্তি,শৃঙ্খলা ,সম্পীতিও দূর্নীতি মুক্ত মাগুরা পৌরসভা গড়তে চাই। ধর্ম নিয়ে কটূক্তি,দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ। জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত! দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আপন দূলাভাই কর্তৃক ১১ বছরের শ্যালিকা ধর্ষিতা সে সাত মাসের অন্তঃসত্তা! সুধারামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণ, থানায় মামলা দায়ের! সুনামগন্জের দোয়ারাবাজারে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা! মহানবী (সা.) কে অবমাননা: কুয়েতের পর এবার ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে কাতার ! সমাজ কল্যাণ মূলক কার্যক্রম উপলক্ষ্যে মাদারীপুরে “শান্তির পথে সমিতির” মত বিনিময় সভা! একজন শিক্ষা গুরুরত্নের মৃত্যু খলিফারহাট অঞ্চলে শোকের চায়া! নোয়াখালীর প্রবীণ সাংবাদিক আহসান উল্যাহ মাষ্টারের ইন্তেকাল

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই !

নিজেস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) মাহবুবে আলম মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অ্যাটর্নি জেনারেল রোববার সন্ধ্যা ৭ টা ২৫ মিনিটে মারা গেছেন বলে  নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে সুমন মাহবুব। মৃত্যুকালে মাহবুবে আলমের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের জ্বর আসায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর তার কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। তবে পরবর্তী করোনামুক্ত হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সিএমএইচ এর আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আজ মারা গেলেন।

মাহবুবে আলম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপর ১৯৭২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন মাহবুবে আলম। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভূক্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। পরবর্তিতে ১৯৭৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৮০ সালে আপিল বিভাগে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি পান তিনি। এরপর ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন মাহবুবে আলম। এছাড়া তিনি ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ‘ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি ষ্ট্রাডিজ’ থেকে সাংবিধানিক আইন ও সংসদীয় প্রতিষ্ঠান ও পদ্ধতি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবে আলম। এরমধ্যে ১৯৯৩-৯৪ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ২০০৫-২০০৬ মেয়াদে তিনি আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি মাহবুবে আলম রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর থেকে টানা ১১ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে পদাধিকার বলে তিনি আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মামলায় আইনজীবী হিসেবে যুক্ত থাকা মাহবুবে আলম সংবিধানের ৫ম, ৭ম, ১৩তম ও ষোড়শ সংশোধনীর মামলা রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ছিলেন। এছাড়া তিনি বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলাসহ সর্বোচ্চ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনা করেন।

ভ্রমণপ্রিয় ও রবীন্দ্র ভক্ত হিসেবে পরিচিত মাহবুবে আলম দেশে ও দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, হংকং, কোরিয়া ও তানজানিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ সফর করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব