বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

আদমজী জুট মিল বন্ধের ১৮ বছর প্রায়ই শেষের দিকে।

আদমজী জুট মিল বন্ধের ১৮ বছর প্রায়ই শেষের দিকে।। অব্যাহত লোকসানের কারণে প্রতিষ্ঠার ৫২ বছর পর ২০০২ সালের ৩০ জুন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এশিয়ার বৃহত্তম এই জুট মিলটি। 

বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী জুট মিলের ২৪৫ দশমিক ১২ একর জায়গায় পরে গড়ে তোলা হয় আদমজী ইপিজেড। আদমজী ইপিজেডের প্লট সংখ্যা ২২৯টি। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২০০ বর্গমিটার


ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের অবস্থান। 


২০০৬ সালের ৬ মার্চ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। আদমজী ইপিজেডের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে  ৪৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। 


এর মধ্যে ১১টি দেশি, ২৭টি বিদেশি ও ১০টি যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এসব কারখানায় গার্মেন্টস, জিপার, কার্টন, হ্যাঙ্গার, লেভেল, ট্যাগ, জুতা, সোয়েটার, টেক্সটাইল, মোজা, জুয়েলারি, পলি ও ডায়িংসহ ইত্যাদি শতভাগ রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। 


আদমজী ইপিজেড চালু হওয়ার পর প্রথম অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছিল মাত্র ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর প্রথম অর্থবছরে রফতানি হয়েছিল ২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য। 


তখন শ্রমিক সংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ৬২৫ জন। সময়ের পরিক্রমায় বিনিয়োগ যেমন বেড়েছে, তেমনি রফতানির পরিমাণও বেড়েছে।


বেপজার তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ (২০১৮-২০১৯) আদমজী ইপিজেডে মোট বিনিয়োগ হয়েছে ৫২১ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 


একই সময়ে বিদেশে রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে এ পর্যন্ত চাকরি করছেন মোট ৬২ হাজার ২০০ জন। 


এখানে বিনিয়োগ বাড়ার ফলে বেড়েছে কর্মসংস্থান। আর কমর্সসংস্থান বাড়ার কারণে নিয়মিত অসংখ্য শ্রমিক গণপরিবহনে আসা-যাওয়া করছেন। দুই লেনের সড়ক হওয়ায় ইপিজেডের শ্রমিকরা অফিসে যাওয়ার সময় এবং আসার সময় চিটাগাং রোড থেকে আদমজী পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। 


কয়েকশ আটো রিকশা এলোমেলো পার্কিং ও যাতায়াতের কারণে অহেতুক যানজট লেগে থাকে বলে মনে করেন শ্রমিকরা। এতে করে সাধারণ মানুষকে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। 


আদমজী ইপিজেড প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখনও প্রশস্ত করা হয়নি।  


উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সম্ভ্রান্ত আদমজী পরিবারের তিন ভাই ওয়াহেদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী ও গুল মোহাম্মদ আদমজী মিলে সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ২৯৪ দশমিক ৮৮ একর জমি নিয়ে আদমজী জুট মিলস নির্মাণ করেন। 


সেই সময় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে ১৭০০ হেসিয়ান ও ১০০০ সেকিং লুম নিয়ে এই মিলের উৎপাদন শুরু হয় ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর। তখন আদমজী জুট মিলে প্রতিদিন গড়ে ২৮৮ টন পাটের চট উৎপাদন করা হতো। 


ওই সময় মিলে ৩৩০০টি তাঁতকল বসানো হয়। তৎকালীন আদমজী জুট মিলের তৈরি চটের ব্যাগ ও বস্তা দেশের ভোক্তাদের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রফতানি করা হতো। 


রফতানিকৃত পণ্যের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৬০ কোটি টাকা আয় হতো। স্বাধীনতাযুদ্ধের কয়েক বছর পর শ্রমিক আন্দোলনের নাম করে একাধিক গোষ্ঠী জুট মিলের লুটপাটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায়। 


শ্রমিক গোষ্ঠীর সংঘর্ষ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে রূপ নেয়ার পর অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ফলে আদমজী জুট মিল লোকসান গুনতে থাকে। 


১ হাজার ২০০ কোটি টাকা লোকসান দেখিয়ে বিএনপি সরকার মিলটি বন্ধ ঘোষণা করে। মিলটি বন্ধের সময় ২৪ হাজার ৯১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক চাকরি করতেন। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনাদী পরিশোধ করে দেয়া হয় শ্রমিকদের।



আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব