বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
করণা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে স্বাভাবিক জীবন। নৌ-পথে চাঁদাবাজি বন্ধে ছাতক থানায় মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়! মাগুরায় করোনাকালীন স্বেচ্ছাসেবকদের সংবর্ধনা! ঢাকা ধামরাইয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে কম্বল বিতরণ! মোহনপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জহুরা রহমান প্রভার সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত! দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বাসের ধাক্কায় ১ শিশু নিহত! ইএএলজি প্রকল্পের বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ! আলোচিত নোয়াখালীর বসুর হাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়রকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নোয়াখালীর বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজের শিক্ষকবৃন্দ। নরওয়েতে ফাইজারের টিকা নিয়ে ৩৩ জনের মৃত্যু! বিকাশ অ্যাপ রেফার করে ১০০ টাকা বোনাস পাওয়ার সুযোগ!

আজ ১ ডিসেম্বর।বিশ্ব এইডস দিবস। সচেতনতা জাগ্রত হোক নিজের সক্ষমতা থেকেই।

রিয়াদুর রহমান নীল: এইডস (ইংরেজি: AIDS; পূর্ণরূপ: Acquired Immuno Deficiency Syndrome) বা অর্জিত প্রতিরক্ষার অভাবজনিত রোগলক্ষণসমষ্টি হচ্ছে এইচ.আই.ভি. (HIV; পূর্ণরূপ: human immunodeficiency virus) তথা “মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী ভাইরাস” নামক ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি রোগলক্ষণসমষ্টি,যা মানুষের দেহে রোগ-প্রতিরোধের ক্ষমতা বা প্রতিরক্ষা তথা অনাক্রম্যতা হ্রাস করে। এর ফলে একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যে কোনও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটাতে পারে। এইচ.আই.ভি. (মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী ভাইরাস) সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই সর্বদা এইডস হয়না। শুরুতে ক্ষেত্রবিশেষে ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

এরপর বহুদিন কোনও উপসর্গ দেখা যায় না।এইচ.আই.ভি. ভাইরাসের আক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র বা অনাক্রম্যতন্ত্র দুর্বল হতে থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ সংক্রামক ব্যাধি যেমন যক্ষ্মায় যেমন আক্রান্ত হতে পারেন, তেমনই সুযোগসন্ধানী সংক্রামক ব্যাধি এবং অর্বুদ বা টিউমারের শিকার হতে পারেন, যেগুলি কেবলমাত্র সেসব লোকেরই হয়, যাদের দেহের অনাক্রম্যতন্ত্র (বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) কাজ করে না। এইচ.আই.ভি. সংক্রমণের এই পর্যায়টিকেই এইডস বলা হয়।এই পর্যায়ে প্রায়শই রোগীর অনিচ্ছাকৃতভাবে ও অত্যধিক পরিমাণে ওজন হ্রাস পায়। যেহেতু একবার সংক্রামক এইচ.আই.ভি. (মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী ভাইরাস) শরীরে ঢুকলে তাকে পুরোপুরি দূর করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, তাই এইচ.আই.ভি. সংক্রমণ হলে এইডস প্রায় অনিবার্য। তবে বিনা চিকিৎসায় এইডস পর্যায়ে পৌঁছতে যদি লাগে গড়ে দশ বছর, তবে চিকিৎসার দ্বারা তাকে আরো কিছু বছর পিছিয়ে দেওয়া যায়।

কিন্তু “হার্ট” (HAART) নামে এইডস-এর যে সমন্বিত ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে, তা অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ লোক এইচআইভি (মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী ভাইরাস) দ্বারা আক্রান্ত ছিল এবং ঐ বছর এইডসের কারণে ১০ লক্ষ লোকের মৃত্যু হয়।তবে ২০১৬ সালে ২০১৫ সালের তুলনায় নতুন এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা ৩ লক্ষ কম ছিল।বেশির ভাগ এইডস আক্রান্ত রোগীই সাহারা-নিম্ন আফ্রিকাতে বাস করে।১৯৮০-র দশকের শুরুতে রোগটি চিহ্নিত করার পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বব্যাপী এইডস রোগে মোট আনুমানিক ৩ কোটি ৫০ লক্ষ লোক মারা গেছে।

এইডসকে বর্তমানে একটি মহামারী ব্যাধি হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বিশ্বের বিশাল এক আয়তন জুড়ে বিদ্যমান এবং যা সক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।এইচআইভি ভাইরাসটি সম্ভবত ১৯শ শতকের শেষভাগে বা ২০শ শতকের শুরুর দিকে পশ্চিম-মধ্য আফ্রিকাতে উৎপত্তিলাভ করে।১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসি সর্বপ্রথম রোগটি শনাক্ত করে এবং তার পরে ১৯৮০-র দশকের শুরুর দিকে এই রোগের কারণ হিসেবে এইচআইভি ভাইরাসকে শনাক্ত করা হয়।সিডিসি’র (রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, যুক্তরাষ্ট্র সরকার) ২০১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে এইচ.আই.ভি. আক্রান্তের ৭০ শতাংশই সমকামী এবং উভকামী পুরুষ। এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা জাগ্রত হোক নিজের সক্ষমতা থেকেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব