বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
করণা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে স্বাভাবিক জীবন। নৌ-পথে চাঁদাবাজি বন্ধে ছাতক থানায় মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়! মাগুরায় করোনাকালীন স্বেচ্ছাসেবকদের সংবর্ধনা! ঢাকা ধামরাইয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে কম্বল বিতরণ! মোহনপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জহুরা রহমান প্রভার সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত! দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বাসের ধাক্কায় ১ শিশু নিহত! ইএএলজি প্রকল্পের বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ! আলোচিত নোয়াখালীর বসুর হাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়রকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নোয়াখালীর বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজের শিক্ষকবৃন্দ। নরওয়েতে ফাইজারের টিকা নিয়ে ৩৩ জনের মৃত্যু! বিকাশ অ্যাপ রেফার করে ১০০ টাকা বোনাস পাওয়ার সুযোগ!

পদ্মা পাড়ের মানুষের স্বপ্ন মিলবে এক বিন্দুতে!

আল আমিন সোহাগ – পদ্মা পাড়ের জীবনযত্রা খুব কঠিন। মনে হয় সব সময় যুদ্ধ করে বাচতে হয়। পদ্মা নদী নিয়ে কত গান, কত কবিতা রচিত হয়েছ। এমনি কি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অসাধারণ ও কালজয়ী পঙ্ক্তিমালা ‘যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা বহমান, ততদিন রবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’ কবি আহসান হাবিবের সেই বিখ্যাত কবিতা ‘আমি পদ্মা পাড়ের ছেলে আমি পদ্মা নদীর মেয়ে’। আবু জাফরের লেখা ও সুরে ফরিদা পারভীনের গাওয়া ‘এই পদ্মা এই মেঘনা এই যুমনা নদীর তটে…।’ পদ্মা নিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গেয়েছিলেন, ‘পদ্মা নদীর তীরে আমার ছোট সবুজ গ্রাম.।’ অর্থাৎ পদ্মা নদী অনেক সৃষ্টিশীল উৎস হয়ে ধরা দিয়েছে সবার সামনে।
আজ পদ্মা নদীর ওপর দিয়ে সেতু হচ্ছে। এই সেতু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বপ্নকে সত্যিতে রূপ দিতে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। বেশ কিছু ষড়যন্ত্র হয়েছে যেন স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু না হয়। শেষমেশ নিজেদেরই অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে। সেতু নির্মাণের আগে সরকারকে বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। অনেক পরিবার এই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কিন্তু তাই বলে সরকার এই ত্যাগী পরিবারকে খালি হাতে বিদায় করেনি। এসব পরিবারের জন্য এনে দিয়েছেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। পদ্মা নদীর দুই পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাসস্থানের জন্য সেতু কর্তৃপক্ষ তৈরি করেছেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আধুনিক পুনর্বাসন কেন্দ্র। নতুন জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা বসবাস করছেন পুনর্বাসন এলাকায়। পুনর্বাসন এলাকায় বসবাসকারী পরিবার ও তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে মাওয়া আর জাজিরা প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একই সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে ৫টি আধুনিক মানসম্মত স্বাস্থ্যকেন্দ্র।


জানা গেছে, এসব স্কুল আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সাল ১ মার্চ জাতীয় পর্যায়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টারকে (রিক) পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তারা সুষ্ঠুভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক, কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার, নার্স, ফার্মাস্টিট, ও নার্স নিয়োগ সম্পন্ন করেছে।
২০১৭ সালের ১ মার্চ শুরু কুমারভোগ, যশলদিয়া, নাওডোবা ও বাখরেরকান্দি পুনর্বাসন এলাকায় স্থাপিত ৪টি প্রাথমিক স্কুলে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮৮৫ ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। আজ সেই বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০৬। বাড়ির পাশেই উন্নতমানের বিদ্যালয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের পড়ার সুযোগ পেয়ে অনেকেই আনন্দিত। আবার অনেকেই গর্বিত। তাদের স্বপ্ন পদ্মা সেতুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের সন্তানরা স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এই বিদ্যালয়ের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে যারা শিক্ষকতা করছেন সবাই তরুণ আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য। স্কুলের বয়স বেশি না হলেও এখানে জাতীয় দিবস থেকে শুরু করে অন্য গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়।

পাশাপাশি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ দিতে প্রত্যেক বছর বার্ষিক প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। প্রত্যেক বছর একদিকে যেমন বিনামূল্যে বই দেওয়া হয়, অন্যদিকে মেধাবিদের জন্য রয়েছে উপবৃত্তির ব্যবস্থা। এই স্কুলের পাসের হার চোখে পড়ার মতো। ২০১৭ সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাসের হার ৮৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর ২০১৮ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পাসের হার শতভাগ। আসছে নতুন বছর থেকে ডিজিটাল ক্লাসরুম, লাইব্রেরি আর সব শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এবার আসা যাক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কথায়। এখানে ৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। যেখানে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি, স্যাটেলাইট ক্লিনিক সেবা দেওয়া হয়। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো খোলা থাকে, এবং স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দিবস পালন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস, আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস দিবস, এইডস দিবস। এর পাশাপাশি নিয়মিত ভিটামিন, টিকা দিবস ও চক্ষুশিবিরের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৮৭ হাজার ৯০০ জন সেবা নিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী দিনে প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি করে পূর্ণাঙ্গ প্যাথলজি বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘রিক’ প্রশংসার দাবি রাখে। 

প্রকল্পের নাম: পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্প

প্রকল্পের বিভিন্ন উপাত্তসমূহ
ক) মূল সেতু
খ) নদীশাসন কাজ
গ) জাজিরা সংযোগ সড়ক ও আনুসঙ্গিক সুযোগ সুবিধা
ঘ) মাওয়া সংযোগ সড়ক ও আনুসঙ্গিক সুযোগ সুবিধা
ঙ) সার্ভিস এরিয়া-২
চ) পুনর্বাসন
ছ) পরিবেশ
জ) ভূমি অধিগ্রহণ
ঝ) সিএসসি (মূল সেতু ও নদীশাসন)
ঞ) সিএসসি (সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়া-২)
ট) ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট এন্ড সেফটি টিম (ইএসএসটি)
মূল সেতু (৬.১৫ কি:মি: দৈর্ঘ্য)-
ঠিকাদার : চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন, চায়না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব